Awas Yojana Money 2025: পশ্চিমবঙ্গের দরিদ্র ও আবাসহীন পরিবারগুলোর জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে রাজ্য সরকার। “আবাস যোজনা ২০২৫” প্রকল্পে, যারা এখনও স্থায়ী বাড়ি পায়নি তাদেরকে এককালীন ₹১,২০,০০০ পর্যন্ত অর্থসাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি মাত্র অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং একটি নিরাপদ, স্থায়ী ও সম্মানজনক আবাস গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। তবে এই সুযোগ পেতে হবে কিছু শর্ত মেনে চলেই — যেমন আয় সীমা, জমির দলিল, পাকা ঘরের অনুপস্থিতি, ইত্যাদি। এখন আমরা বিস্তারিত জানব — কে আবেদন করতে পারবেন, কী নথিপত্র লাগবে, পদ্ধতি কী, এবং কোন সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।

আবাস যোজনার উদ্দেশ্য ও আবাস নীতি
এই প্রকল্প মূলত কেন্দ্রীয় “Pradhan Mantri Awas Yojana (PMAY)” এর আদলে রাজ্য পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে, তবে স্থানীয় পরিবেশ ও জনোপযোগী নীতি অনুযায়ী অভিযোজিত। প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের দরিদ্র ও গৃহহীণ মানুষদের জন্য পাকা, সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ ঘর নিশ্চিত করা। যারা এখনও একটি স্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন না অথবা উন্নয়নশীল অবস্থার ঘরে রয়েছেন, তারা এই সুযোগ পেতে পারবে।
আবেদন করার যোগ্যতা
আবাস যোজনা প্রকল্পে আবেদনের জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত যোগ্যতা থাকতে হবে:
1. আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
2. পরিবারের কাছে পরিচিত বা পাকা ঘর থাকা যাবে না।
3. পরিবারের বার্ষিক আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে (প্রায় ₹1,00,000 বা তার কম; রাজ্য নীতি অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে)।
4. BPL রেশন কার্ড বা অনুরূপ দরিদ্রতা প্রমাণপত্র থাকতে হবে।
5. জমির দলিল/পর্চা থাকতে হবে, যাতে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে।
6. পরিবারের সদস্য যদি ইতিমধ্যেই সরকারি সুবিধাভোগী হন, তাহলে আবেদন বাতিল হতে পারে—স্থানীয় তত্ত্বাবধানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদন করার সময় সাধারণভাবে যে কাগজপত্র লাগবে, সেগুলি হলো:
আধার কার্ড (পরিচয় ও ঠিকানার জন্য)
BPL রেশন কার্ড বা দরিদ্রতা প্রমাণ
বার্ষিক আয়ের প্রমাণপত্র
স্থায়ী বাসিন্দা সনদ (Domicile Certificate)
জমির দলিল/পর্চা
পাসপোর্ট সাইজের ছবি
আবেদন পদ্ধতি
আবেদন করার ধাপগুলো সাধারণত নিম্নরূপ:
1. স্থানীয় পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিস (BDO / গ্রাম পঞ্চায়েত) থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ।
2. ফর্ম সতর্কভাবে পূরণ করা — ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে বাতিল হতে পারে।
3. প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেওয়া।
4. জমা দেওয়ার পরে আবেদন নম্বর বা রসিদ হাতে নেওয়া, যা পরবর্তী পর্যায়ে দরকার হতে পারে।
5. ভেরিফিকেশন ও যাচাইয়ের পরে নাম তালিকাভুক্ত হবে।
6. অর্থপ্রদান তিন কিস্তিতে হবে — প্রথম কিস্তি ভেরিফিকেশন শেষে, দ্বিতীয় কিস্তি অগ্রগতি যাচাইয়ের পরে, এবং তৃতীয় কিস্তি বাড়ি শেষ হলে চূড়ান্ত যাচাই শেষে।
অর্থপ্রদান ও সময়সূচী
এই প্রকল্পে মোট অর্থপ্রদান মোটামুটিভাবে ₹১,২০,০০০ ধরা হয়েছে, যা সাধারণত তিনটি কিস্তিতে প্রদান করা হবে।
উদাহরণস্বরূপ:
প্রথম কিস্তি: ≈ ₹৫০,০০০ (ভেরিফিকেশন শেষে)
দ্বিতীয় কিস্তি: ≈ ₹৪০,০০০ (নির্ধারিত অগ্রগতি যাচাইয়ের পরে)
তৃতীয় কিস্তি: বাকি পরিমাণ (গৃহ সমাপ্তি পরবর্তী যাচাই শেষে)
তবে এই কিস্তি ও পরিমাণ রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে—কিছু ক্ষেত্রে প্রথম কিস্তি ডিসেম্বর মাসে পৌঁছাতে পারে।
সাধারণ সমস্যা ও প্রতিকার
কিছু সাধারণ অসুবিধা ও কীভাবে সেগুলি সমাধান করা যেতে পারে:
নাম তালিকায় না থাকা: আবেদন ফর্ম ও নথি পুনর্বিবেচনা করুন, ভুল তথ্য থাকলে সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করুন।
টাকা না আসা: ব্যাংক একাউন্টের IFSC ও অ্যাকাউন্ট নম্বর সঠিক আছে কিনা যাচাই করুন, ভুল থাকলে সংশোধন করুন।
জমি সম্পর্কিত সমস্যা: জমির দলিল সঠিক কিনা দেখুন, যদি আইনি জট থাকে তাহলে স্থানীয় ভূমি দপ্তরে যোগাযোগ করুন।
ভেরিফিকেশন বিলম্ব: স্থানীয় অফিসে নিয়মিত অনুসরণ করুন, মাঝে মাঝে যাচাই ধাপে ধাপে হয়।